মার্জনা করো প্রিয় সুন্দরবন তোমার বন্দনায় আজ আমি নই। তুমি যে অনন্ত আলোর মেলা বসিয়েছিলে এই শরতের প্রথম পূর্ণিমায় তার বন্দনার ব্যার্থ চেষ্টায় আমি। কি সাধ্য এই যান্ত্রিক বাটনে তোমার জ্যোৎস্না সাজের সুন্দরের বর্ননার। তবু ব্যার্থ চেষ্টায় আমি।
পূব আকাশ মেঘলা তখন যখন তোমার আকাশে পক্ষধরের আগমন। লুকানো আলোয় তোমার বুকে বয়ে চলা নদীতে চলেছি আমরা তখন ছিটকে আসা জ্যোৎস্নার আলো তোমার আকাশ জুড়ে। খন্ড মেঘ ছুটে চলছে সমস্ত আকাশে যেনো সাদা মেঘের ভেলা। জোয়ার শেষের অপেক্ষায় যখন স্থির আমরা পূর্ণ চন্দ্র প্রভা ছড়িয়ে মধ্য গগনে। শরতের আকাশ স্বভাব সুলভ রূপ পালটিয়ে হঠাৎ পরিচ্ছন্ন আর তখন চন্দ্রদেবের আশীর্বাদে জ্যোৎস্না সুন্দরের মেলা বসেছে সমস্ত বন জুড়ে! নদীর জলের একেক প্রান্তে একেক রকম সাজানো সুন্দর। সবই জ্যোৎস্নার তৈরি কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন রূপের। একটু দূরের কূলে বৃক্ষরাজীতে জড়ানো জ্যোৎস্নায় ছড়ানো সুন্দর ভিন্ন সুন্দর কাছের কূলের। জলের ঢেউয়ে ছিটকে আসা রূপালী আলো নেচে বেড়ায় ঢেউয়েরই তালে। পাড়ের চরে চকচকে বালু দানা টুকরো মুক্তর মতো। বাতাসে যখন গাছের পাতা দোল দেয় পাশের জ্যোৎস্না লুটোপুটি করে সেই দোলে। বন জুড়ে জমাট নীরাবতার মাঝে অজানা প্রাণীর ডাকে সংগীত সুরের আবহ আর আকাশে চলছে মেঘ নকশার খেলা। সময় যদি স্থির হতো ওই জ্যোৎস্না সুন্দরকে করতাম অনন্ত।
আমার দুই নয়নে সব সুন্দর চাই। আমি কখনো বিষন্ন একটু পরেই আবার চঞ্চল। স্মৃতিতে হঠাৎ অতীতের সুখ,দুঃখ বা হারানো ভালোলাগা। একটু পরেই আবার জ্যোৎস্না স্নানের আশা। অদ্ভুত মন জ্যোৎস্না সুন্দরেও করে খেলা। ভাবনা আমার, যদি থাকতো একটা বড় থলে মেলা থেকে সব জ্যোৎস্না সুন্দর নিতাম ভরে। জঞ্জাল শহরে বসে প্রতি রাতে ছড়াতাম সেই পূর্ণ চন্দ্রমা আলোক।
ভ্রমণ সময়ঃ ১৩ই সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ ই সেপ্টেম্বর ২০১৯
ভ্রমণ স্থানঃ সুন্দরবন

