সুন্দরবন সংরক্ষণে বা বন্যপ্রাণী রক্ষায় যেকোনো কার্যকরী সিদ্ধান্তকে আমি সবসময় সাধুবাদ জানাই। প্রায় এক যুগ ধরে আমি সুন্দরবন-নির্ভর পর্যটন সেবার সাথে সরাসরি জড়িত। পেশাগত কারণে সুন্দরবনের বিভিন্ন গবেষণা দলকে লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে গিয়ে পর্যটন কেন্দ্রের বাইরের বিস্তর ও দুর্গম এলাকা ভ্রমণের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ থেকে আমি মনে করি, জুন থেকে আগস্ট—এই ৩ মাস সুন্দরবনে পর্যটন এবং মৎস্যসহ অন্যান্য সম্পদ আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা বনের জন্য সুদূরপ্রসারী কোনো উপকারী পদক্ষেপ নয়।
আজ থেকে আগামী ৩ মাস সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ, মাছ ধরা বা যেকোনো ধরনের সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান নদী পশুর দিয়ে মোংলা বন্দরের সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি মোংলা থেকে চালনা হয়ে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া, দোবাকি, আংটিহারা, শিবসা, আড়ুয়া শিবসা, আড়পাঙ্গাসিয়া হয়ে বজবজা-আড়াইবেঁকি-দোবেঁকি কচিকাটা খাল এবং রায়মঙ্গল রুট ব্যবহার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পণ্যবাহী নৌযান চলাচলও অব্যাহত থাকবে।
এতে প্রমাণ হয় যে, সুন্দরবনকে ৩ মাসের সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ঘোষণাটি সঠিক নয়।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং পত্রিকার সংবাদ প্রকাশে জানা যায় , যখন বনে পর্যটক ও বৈধ মৎস্যজীবীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, তখন বনের ভেতরে অপরাধ চক্র ও চোরা শিকারিদের তৎপরতা বহুগুণ বেড়ে যায়। পর্যটক ও জেলেদের উপস্থিতির কারণে বনের অনেক এলাকায় একধরনের প্রাকৃতিক নজরদারি বজায় থাকে, যা অপরাধীদের অবাধ বিচরণের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে বন যখন জনমানবহীন হয়ে পড়ে, তখন বন বিভাগের সীমিত জনবল দিয়ে বিশাল এই বনের প্রতিটি প্রান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বন্যপ্রাণী পাচার ও অবৈধ সম্পদ আহরণের ঝুঁকি আরও বাড়ে।
তাই বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্যকে সফল করতে হলে কেবল ঢালাও নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রয়োজন। পর্যটন ও সম্পদ আহরণ নিয়ন্ত্রিত উপায়ে চালু রেখে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করা এবং স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ত করাই সুন্দরবন সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
মো: তানজির এইচ রুবেল | সিইও, ফেমাস ট্যুরস বিডি।

